| |

Ad

মহাদেবপুরে আত্রাই নদীতে অবাধে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা

আপডেটঃ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০৬, ২০১৯

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত আত্রাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে ফেলা হচ্ছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা। 
ভোরে ও রাতের অন্ধকারে আত্রাই নদীর ব্রিজে মুরগির নাড়ি-ভুড়ি, ময়লা-আবর্জনা, পঁচা খাবার নিয়ে এসে নদীতে ফেলে যাচ্ছে উপজেলা সদরের হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। এতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে প্রকৃতি-ঘটছে পরিবেশ দূষণ। প্রশাসনের নাকের ডগায় নদী দূষণের মহোৎসবে পরিবেশবাদীরা আতঙ্কিত হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নিরব। 
এ ব্যাপরে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহলে। নদী দূষণ রোধে কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান কামনা করেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের পঁচা খাবার, নষ্ট ভাত, তরকারি, শাক-সবজি, দইয়ের খালি বাটি, ডিমের খোসা, পলিথিন, মুরগির নাড়ি-ভুড়ি ও জুসের বোতলসহ নানা রকমের দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা ফেলা হচ্ছে আত্রাই নদী ও শ্মশান ঘাট এলাকার নদীর তীরে। আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শ্মশান ঘাটে চলাচল করা সাধারণ মানুষ ও নদীর তীরবর্তী লোকজন। 
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের হোটেল-রেস্টুরেন্ট এর কর্মচারীরা ভোরে ও রাতে ময়লা-আবর্জনা ও পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার ভ্যান গাড়িতে করে নিয়ে এসে নদীতে ফেলে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটলের কর্মচারী ও ভ্যান চালক বলেন, হোটেলের ময়লা আবর্জনা, দুর্গন্ধযুক্ত বাসি পঁচা খাবারগুলো প্রতিদিনই ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ বাধা দেয় না এমন প্রশ্নে তারা বলেন, না কেউ বাধা দেয় না। তবে পথচারীরা মাঝে মাঝে নদীতে ময়লা ফেলতে নিষেধ করে। এখানে শুধু আমরা না সবাই ময়লা ফেলে তাই আমরাও ফেলি। 
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ আন্দোলনের কর্মী আমিনুর রহমান খোকন বলেন, ‘নদীমাতৃক আমাদের এই দেশ, নদী বাঁচলে বাঁচবো আমরা বাঁচবে বাংলাদেশ’। আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নদী রক্ষা করতেই হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যে কোনো মূল্যে নদী দূষণ বন্ধ করতে হবে। 
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রাণ ও প্রকৃতি’র সভাপতি কাজী ন‍াজমুল বলেন, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেললে একদিকে যেমন বাড়বে পরিবেশ দূষণ অন্যদিকে দূষিত হবে নদীর পানি। এতে হুমকির মুখে পড়বে জীব বৈচিত্র। 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আখতারুজ্জামান আলাল বলেন, ময়লা-আবর্জনা নদীর পানিতে মিশে নানা রকমের রোগ জীবাণু ছড়ায়। ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগ, টাইফয়েডসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধরা এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।