| |

Ad

জাপায় ফের গৃহবিবাদ তুঙ্গে, রওশনকে চেয়ারম্যান ঘোষণা

আপডেটঃ ৫:২০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান  বেগম রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার  বেলা ১২টায় রওশন এরশাদের গুলশানের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ  ঘোষনা  দেওয়া হয়। 
এর প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির  চেয়ারম্যান  গোলাম  মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ব্যরিস্টার আনিসের এমন  ঘোষণা  দেওয়ার এখতিয়ার  নেই। দলের শৃঙ্খলা ভঙের কারণে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা  নেওয়া হবে। বনানী কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে একথা বলেন তিনি। ব্যরিস্টার আনিস রওশন এরশাদকে পার্টির  চেয়ারম্যান  ঘোষণার পর পাশে বসা রওশন এরশাদের কাছে  চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে  কোনো কথাই বলেননি সাবেক এই বিরোধীদলীয়  নেতা। এদিকে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ  রওশন এরশাদ বা জিএম কাদের কারোর পাশেই ছিলেন না। দুইদিক  থেকে দাবি করা হয়েছে রাঙ্গাঁ তাদের দলের মহাসচিব। তাদের সঙ্গেই আছেন।
রওশনকে  চেয়ারম্যান  ঘোষণা : ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, রওশন এরশাদ পার্টির  চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিল করে গণতান্ত্রিক উপায়ে স্থায়ী  চেয়ারম্যান ঠিক করব।
তিনি অভিযোগ করেন, জনাব কাদের জাতীয় পার্টির ‘গঠনতন্ত্র  ভেঙে’  চেয়ারম্যান হয়েছেন।  যে  প্রক্রিয়ায় ওনি নিজেকে পার্টির  চেয়ারম্যান দাবি করছেন।  সে প্রক্রিয়াতে গলদ রয়েছে। তবে জি এম কাদেরকে  কো-চেয়ারম্যানের সম্মান  দেবেন রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, জনাব কাদের পার্লামেন্টারি  বোর্ড গঠনে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন। স্পষ্ট করে বলা আছে,  চেয়ারম্যান, মহাসচিবের বাইরে  জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৭ সদস্য থাকার কথা। ওনি যা করেছেন সবই অবৈধ। এরশাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে আমরা এ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রওশন এরশাদ বলেন, পার্টিতে কী হচ্ছে? জাপা অতীতেও ভাগ হয়েছে, এবারও কি  সেটি হচ্ছে নাকি? হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এত কষ্ট করে পার্টি গড়ে তুলেছেন, এখন  সেই পার্টিটা ভালোভাবে চলুক, মান অভিমান ভুলে যারা চলে  গেছে, তারা ফিরে আসুক। আমি চাই পার্টির সবাই মিলেমিশে জনগণের  সেবা করব।  বেগম রওশন এরশাদ, ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ছাড়াও সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমাম,  সেলিম ওসমান ও লিয়াকত  হোসেন  খোকা,  গোলাম বিকরিয়া টিপু।  প্রেসিডিয়ামদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ পারভেজ  সোহেল রানা, ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, খালেদ আখতার, শফিকুল ইসলাম  সেন্টু। শফিকুল ইসলাম  সেন্টু মিছিল নিয়ে এতে অংশ  নেন। সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালেই এক পক্ষ রওশনে পক্ষে  শ্লোগান  দেন। এ সময় ছাত্র সমাজের  নেতাকর্মীরাও দল না ভাঙার পক্ষে  শ্লোগান  দেন গুলাশানে।
এখতিয়ার  নেই ব্যবস্থা  নেবো : রওশন এরশাদের সংবাদ সম্মেলন  শেষে জাতীয় পার্টির  চেয়ারম্যান  গোলাম  মোহাম্মদ কাদেরের প্রতিক্রিয়া জানতে বনানীর কার্যালয়ে  গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাকে  চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে  গেছেন। দলের  প্রেসিডিয়ামও তাতে সমর্থন দিয়েছেন। 
জিএম কাদের বলেন, এরশাদ পত্নী রওশনকে তিনি ‘মায়ের মত’ সম্মান করেন। রওশন এরশাদ নিজ মুখে তো আর বলেননি তিনি চেয়ারম্যান। আশা করি, তিনি এমন কিছু করবেন না, যাতে তার সম্মান নষ্ট হয়। ওনার কতটুকু সমর্থন রয়েছে তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।
দল ভাঙনের মুখে পড়েনি দাবি করে কাদের বলেন, কেউ নিজেকে রাজা ঘোষণা করলেই হয় না, তার রাজ্য, প্রজা সমর্থন থাকতে হয়। তিনি বলেন, এরশাদের মৃত্যুতে তিনটি বিষয়ে শূন্যতা  তৈরি হয়। পার্টির  চেয়ারম্যান পদ, পার্লামেন্টারি পার্টির নেতার ও ওনার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর আসন। গঠনতন্ত্র  মোতাবেক পার্লামেন্টারি পার্টির  নেতা হবেন পার্টির  চেয়ারম্যান। 
পার্টির  প্রেসিডিয়ামের  বৈঠকে সর্বোসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চিঠি  দেওয়া হয়েছে স্পিকারকে। এখন বিষয়টি স্পিকার নির্ধারণ করবেন।  চেয়ারম্যান আমি কি না প্রশ্ন উঠেছে, গঠনতন্ত্রের ২০ এর ক ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পার্টির  চেয়ারম্যান যাকে খুশি  যে কোনো পদে নিয়োগ, বহিস্কার কিংবা স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন। এটা আমরা মনে করছি ওনার স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন। ওনি মৃত্যুর আগে সাংগঠনিক আদেশে আমাকে  চেয়ারম্যান করে  গেছেন। ওনার মৃত্যুর পর পার্টির  প্রেসিডিয়ামের সভায় আমাকে  চেয়ারম্যান হিসেবে ধন্যবাদ গৃহীত  হয়েছে। এখন  কেউ আমাকে  চেয়ারম্যান না মানেন  সেটা তার বিষয়।
এ সময় পাশে বসা জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জিএম কাদের পার্টির  চেয়ারম্যান এর পক্ষে নানান যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময়  সৈয়দ আবু  হোসেন বাবলা, মাসুদ উদ্দিন  চৌধুরী, সালমা ইসলাম,  গোলাম কিবরিয়া টিপু, নাজমা আকতার, এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর,   রানা  মোহাম্মদ  সোহেল, রংপুর সিটি করপোরেশনের  মেয়র  মোস্তাফিজার রহমান  মোস্তফা, সুনীল শুভরায়, কাজী মামুনুর রশীদ, আলমগীর সিকদার লোটন, হাসিবুল ইসলাম জয়, এনাম জয়নাল আবেদীনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের উদ্দেশে শ্লোগান দিতে থাকে  নেতাকর্মী। পরে পার্টি অফিসের সামনেও তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পার্লামেন্টারি  বোর্ড গঠন করেছেন রওশন : সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির  চেয়ারম্যান হিসেবে পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেছেন। এছাড়াও নিজেকে  চেয়ারম্যান দাবি করে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, রওশন এরশাদ ছাড়া অন্য কাউকে  যেনো  চেয়ারম্যান হিসেবে গণ্য করা না হয়।
রাঙ্গাঁর অবস্থান নিয়ে ধুম্রজাল : জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দলটির  ভেতরে চলছে টানাটানি। এরই মধ্যে  গতকাল  দুপুর  সোয়া বারোটায় গুলশানে রওশন এরশাদকে দলের  চেয়ারম্যান  ঘোষণা করেন তার অনুসারী  নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই ঘটনার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়  গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের জানালেন,  যে  কেউ  ঘোষণা করলেই  তো দলের  চেয়ারম্যান হওয়া যায় না। তাকেই দলের  চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করে  গেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পার্টির শীর্ষ পদ নিয়ে টানাটানি চললেও রওশনপন্থী ও জিএম কাদেরপন্থী উভয় পক্ষই মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে নিজেদের মহাসচিব হিসেবে দাবি করছেন। তবে, এতকিছুর পরও রাঙ্গাঁকে  কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি নিজে রওশন বা জিএম কাদের কাকে  সমর্থন করছেন,  সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি।
এদিকে,  গতকাল দুপুরের অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রওশন এরশাদের পাশে বসে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দাবি করলেন, আমাদের মহাসচিব হিসেবে রাঙ্গাঁই আছেন।
আর এই  ঘোষণার ঘণ্টা খানেক পরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জিএম কাদের বললেন, আমার সঙ্গে রাঙ্গাঁর কথা হয়েছে। তিনি একটি  জরুরি কাজে আছেন।
জাপায় রাঙ্গাঁকে  কেন্দ্র করে  জিএম কাদের ও রওশন পক্ষের  নেতাদের যখন একেক রকম দাবি, তখন দৃশ্যপটে  নেই রাঙ্গাঁ।  ভোরের ডাকের পক্ষ  থেকে একাধিকবার  চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তার ঘনিষ্ঠ এক  নেতা মনে করছেন, মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাল্লা  যেদিকে ভারি হবে, তিনি  সেদিকেই ঝুঁকে পড়বেন।
রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠ এক  নেতার ভাষ্য, রাঙ্গাঁ আপাতত দূরে আছেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দলের  প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের অনেককে  ফোন করলেও সাড়া কম  পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।