| |

Ad

৩০৫৭ কোটি টাকার বাজেট, ডিএনসিসি মশক নিধনে বরাদ্দ তিনগুণ বাড়ালো

আপডেটঃ ৫:১৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

ডেস্ক নিউজঃ মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য তিন হাজার ৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। এছাড়াও নগরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মাসব্যাপী চিরুনী অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৫সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। এটা দায়িত্বে আসার পর মেয়রের প্রথম এবং এই মেয়াদের শেষ বাজেট। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা, আলেয়া সারোয়ার ডেইজী, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, সচিব রবিন্দ্র শ্রী বড়ুয়া প্রমুখ।

প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এক হাজার ৮২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে ডিএনসিসির এ বাজেট ছিল দুই হাজার ৫৬৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আর বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অন্যান্য আয় ৯ কোটি টাকা, সরকারি অনুদান থেকে ১০০ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ অনুদান থেকে ৫০ কোটি টাকা, সরকারি অথবা বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে এক হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট আয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যায় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজস্ব উৎস ও সরকারি অনুদান থেকে ধরা হয়েছে ৭৭১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং সরকারি/বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট থেকে ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

মুজিব দিবসকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা

বাজেট পেশ করার আগে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য এটি নবম বাজেট হলেও মেয়র হিসেবে আমার জন্য প্রথম বাজেট। জাতীয় জীবনে এই অর্থবছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুজিব বর্ষ, ভিশন ২০৪ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সামনে রেখে ডিএনসিসির কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

কোন খাতে কত বরাদ্দ

সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষানাবেক্ষন ও উন্নয়নে গত বছরের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৫৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। গত বছর ছিলো ২৩৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। কবরস্থান ও শ্মশানঘাট সংস্কার উন্নয়নে ৮১ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ কোটি ২৫ লক্ষ। যা গতবছর ছিলো ৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো নির্মান, উন্নয়ন ও রক্ষনাবেক্ষনে ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৬ কোটি ৭৫ লক্ষ। যা গতবছর ছিলো ৪৩ কোটি ৭৫ লক্ষ। পরিবেশ উন্নয়নে ৬১ ভাগ বাড়িয়ে ২৩ লক্ষ ৩৫ লক্ষ করা হয়েছে। যা গত বছরে ছিলো ১৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩০০ শতাংশ বাড়িয়ে কোটি করা হয়েছে। গত বছর যা ছিলো ২৫ লক্ষ। ভুমি অধিগ্রহন ও উন্নয়নে ১৪০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ কোটি করা হয়েছে যা গতবার ছিলো ১ কোটি। সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি সম্পদ ক্রয় খাতে ১৭৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৯০ কোটি ৭৫ লক্ষ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিলো ৩২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

মশক নিধনে বাড়িয়ে ব্যয় ১৮২ শতাংশ

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ডিএনসিসি মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য মোট ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ছিল ২১ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ডিএনসিসি মশা নিয়ন্ত্রণের বরাদ্দ প্রায় তিনগুণ বাড়িয়েছে। এবার মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিএনসিসি সব থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করবে মশার ওধুষের জন্য। ওধুষের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা, যা গত বছরে ছিল ১৪ কোটি টাকা।

মেয়রের প্রতিশ্রুতি

নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র বলেন, মেয়র নির্বাচনের সময় আমি মশক নিয়ন্ত্রণ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেবাগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাটের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তাছাড়া আপনারা জানেন, নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় ডিএনসিসির বর্তমান ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি। আয়তনও ৮২.৬২ বর্গ কিমি থেকে বেড়ে পেয়ে ১৯৬.২২৮ বর্গ কিমি হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নেও আমরা কাজ করবো। নিরাপত্তার খাতিরে নগরের ফ্লাই ওভারের উপরে এলইডি লাইটের ব্যাবস্থা করা হবে। বর্ষাকালে নাগরিক দুর্ভোগ এড়াতে শুস্ক মৌসুমে রাস্তা খোড়াখুরি কাজ সম্পন্ন্ করা হবে।

আমরা মশার ওষুধও ছিটাইনি, টাকাও দিইনি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় চার মাস মশার ওষুধ না ছিটানোর কথা স্বীকার করেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ওই সময় আমরা মশার ওষুধ ছিটাতে পারিনি এটা সত্য। কিন্তু আমরা মানহীন ওষুধও কিনিনি, মশার ওষুধও ছিটায়নি। টাকাও দিইনি।

তিনি বলেন, ওই সময় প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা ভাই দায়িত্বে ছিলেন। তখন যে ওষুধটা ছিলো সেটি নিন্মমানের ওষুধ। নিন্মমানের ওষুধ ছিটিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন টাকা নষ্ট করতে চায় না। আমরা নিন্মমানের ওষুধ নিতে পারতাম। কিন্তু সেই ওষুধ নিলে কোন কার্যকর হবে না। সে জন্যই বরং আমরা পয়সাও দেই নাই ওষুধ ছিটায় নাই। এতে আমরা জনগণকেও কোন বিভ্রান্তিতে ফেলি নাই। মশার ওষুধ নিই নাই, ওষুধও ছিটাই নাই। টাকাও পরিশোধ করি নাই।

ডিএনসিসির অফিস চলবে গাড়ীতে গাড়ীতে

নগরের ফুটপাত মুক্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আতিক বলেন, চিরুনী অভিযানে সাধারণ জনগণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। অনেকটা কার্যকরও হয়েছে বলে আমি মনে করি। এই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ফুটপাত মুক্ত করার অভিযান শুরু হবে। সেই সময়ে ডিএনসিসির অফিস থাকবে রাস্তায়, গাড়ীতে গাড়ীতে।