| |

Ad

মানুষ যখন বড় হয়, প্রতিষ্ঠিত হয় শেকড় ভুলে যায় : নাছির

আপডেটঃ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

চট্টগ্রাম নিউজ ডেস্ক: মানুষ যত বড় হয়, প্রতিষ্ঠিত হয় তখন শেকড় ভুলে যায় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিনিয়র্স ক্লাব মিলনায়তনে প্রফেসর ড. রবিনের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেয়র এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। মেয়র বলেন, নিজের দক্ষতায় বাংলাদেশের সন্তান নিউরো সায়েন্টিস্ট ও সার্জন প্রফেসর ড. রামপ্রসাদ সেনগুপ্ত রবিন বিশ্বকে জয় করেছেন। ২০১২ সাল থেকে ড. রবিনকে চট্টগ্রামে আনার চেষ্টা করেছি আমরা। 
সর্বশেষ তাকে আমরা পেয়েছি। ৮৪ বছর বয়সে চশমা ছাড়া ল্যাপটপ থেকে দেখে বক্তব্য দিয়েছেন। তার কাছ থেকে মাটি, মানুষ ও দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় তা শিখতে পারবো। মানুষ যত বড় হয়, প্রতিষ্ঠিত হয় তখন শেকড় ভুলে যায়। অহংবোধ তৈরি হয়। ৬৪ বছর দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু চট্টগ্রামের কথা ভুলে যাননি। শেকড় ভুলে যাওয়া উচিত নয়। নতুন প্রজন্ম তার কাছ থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
সংবর্ধনার জবাবে প্রফেসর ড. রামপ্রসাদ সেনগুপ্ত রবিন বলেন, আমি চট্টগ্রামের ভূমিপুত্র। আমার প্রতিটি জিন এ মাটি থেকে পেয়েছি। ফতেয়াবাদ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ব্রজ সাহার স্মৃতি মনে পড়ে। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে কর্ণফুলী-এমন সৌন্দর্য বিশ্বের আর কোথাও দেখিনি। আমার জন্মস্থান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সব বন্ধু, স্বজন, শুভাকাঙ্খী, ডোনার, সহকর্মীদের ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবো না। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বন্দর এ নগর। এটি সম্প্রীতির তীর্থভূমি। সূর্য সেন চট্টগ্রামের সন্তান। বাংলা রক মিউজিকের জন্মভূমি চট্টগ্রাম। ক্রিকেটে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে।
চুয়েটের উপাচার্য রফিকুল আলম বলেন, ড. রবিন চট্টগ্রামের সন্তান, এটি আমাদের জন্য গর্বের। তিনি জন্মস্থানকে ভুলেননি। তিনি মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার জীবন ও কর্ম থেকে আমাদের চিকিৎসকরা অনুপ্রেরণা পাবেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ড. রবিনের জ্ঞান ও মেধা বাংলাদেশের স্নায়ু রোগীদের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই সমন্বিত উদ্যোগ। তার মতো গুণীজনেরা সমগ্র বিশ্বের মানবকল্যাণ নিয়ে ভাবেন।
চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ড. রবিন বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি শিক্ষক, লেখক, সার্জন, গবেষক। তার বই আমরা চমেকের গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করেছি। আশা করি কলকাতা নিউরোসায়েন্সের সঙ্গে চমেকের একটি চুক্তি হলে জ্ঞান আদান প্রদান সহজতর হবে। তার জ্ঞান আমাদের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারবো।
বক্তব্য রাখেন, চউক এর চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রকৌশলী ঝুলন দাশ।উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম কলেজ অধ্যক্ষ আবুল হাসান, প্রফেসর ডা. এল এ কাদেরী, ডা. বাসনা মুহুরী, ডা.প্রীতি বড়ুয়া প্রমুখ।