| |

Ad

এবার তামিমকে ছোঁয়ার অপেক্ষায় মুমিনুল

আপডেটঃ ৫:১৬ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার ৫ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। যদি বৃষ্টি বাগড়া না দেয় এবং দিনের খেলা ঠিকঠাকভাবে চলে তবে আজই অলআউট হওয়ার কথা রশিদ খানের দলের। কেন না, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটের যে অবস্থা তাতে টাইগার স্পিনারদের সামনে আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা যে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারবেন না সেটা ধরে নেয়াই যায়। আর আফগানিস্তান যদি শুক্রবার দিনের দ্বিতীয় সেশনের মধ্যেই হাতে থাকা অবশিষ্ট ৫ উইকেট হারায় তবে অনেকটা সময় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবেন স্বাগতিকরা। সে ক্ষেত্রে শুক্রবার তামিমের দখলে থাকা একটি রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ আছে টেস্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে খ্যাত টাইগার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকের সামনে। আফগানদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারলে দেশসেরা ওপেনার তামিমের সঙ্গে টেস্টে যৌথভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের মালিক হবেন কক্সবাজারের এই ক্রিকেটার।
২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেক হয় তামিমের। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে ৫৮ ম্যাচে ৯টি সেঞ্চুরি করেছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার। ব্যাট করেছেন ১১২ ইনিংসে। অন্যদিকে ২০১৩ সালে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া মুমিনুল ৮টি সেঞ্চুরি করার পথে খেলেছেন ৩৬ ম্যাচ। ব্যাট করেছেন ৬৫ ইনিংসে।
রঙির পোশাকের ক্রিকেটে মুমিনুল অনিয়মিত। ৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র ২৮টি, আর টি-টোয়েন্টি ৬টি। তবে টেস্টে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। বলা যায়, তিনি টাইগারদের টেস্ট স্পেশালিস্ট। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেলেও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে খুব একটা খেলার সৌভাগ্য হয় না বাংলাদেশের মতো নিচের সারির দলগুলোর। এটা টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুলের ক্যারিয়ারের অন্তরায়। কিন্তু এরপরও যখনই সুযোগ পান তখনই তিনি চেষ্টা করেন নিজের সেরা খেলাটা উপহার দেয়ার। এ জন্যই পকেট ডায়নামো হিসেবে পরিচিত এই ব্যাটসম্যানের টেস্ট ক্যারিয়ারটা এতটা উজ্জ্বল।
মুমিনুল হকের টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৩ সালের ৮ মার্চ। ওই ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ৩৫ টেস্টে ৪১.৯৩ গড়ে ২৫৫৮ রান করেছেন তিনি। টেস্টে তার নামের পাশে আছে ৮টি সেঞ্চুরি, আর ১২টি হাফসেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ১৮১।
টাইগাররা শেষবার টেস্ট খেলেছে এ বছরের মার্চে। তাও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। সে হিসেবে লম্বা সময়ের জন্যই টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে আছেন বাংলাদেশ দলের অন্য ক্রিকেটাররা। তবে মুমিনুল কিন্তু টেস্ট খেলার মধ্যেই ছিলেন। গত মাসে ভারত সফরে গিয়ে খেলে এসেছেন মিনি রঞ্জি ট্রফি। সেখানে সেঞ্চুরিও পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া কন্ডিশনিং ক্যাম্পের বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনুশীলন করেছেন এই ব্যাটসম্যান। তাই আফগানদের বিপক্ষে তার কাছে ভালো কিছু আশা করাই যায়।
মুমিনুল হককে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এর পেছনে অবশ্য যুক্তিসঙ্গত কারণও আছে। আর সেই কারণটা হলো বাঁ হাতি এই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং গড়। টেস্টে টাইগার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার গড়ই সর্বোচ্চ। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে মুমিনুলের ব্যাটিং গড় ৪১.৯৩। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাকিবের ব্যাটিং গড় ৩৯.৬৫।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। সেবার ২ ম্যাচের সিরিজে ৩৭৬ রান করেন মুমিনুল, যা ২ ম্যাচের কোনো টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর মাত্র ৪ রান করতে পারলেই হাবিবুল বাশারকে পেছনে ফেলে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ডটি নিজের করে নিতে পারতেন তিনি।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে মুমিনুলের ব্যাটিং পরিসংখ্যান অন্য যে কোনো ভেন্যুর চেয়ে অনেক বেশি ভালো। এই মাঠে এ পর্যন্ত ৮টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। করেছেন ১০০১ রান। গড় ৮৩.৪২। আর সেঞ্চুরি আছে ৬টি। অর্থাৎ তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৮ সেঞ্চুরির ৬টিই এসেছে এই মাঠে। তাই আফগানদের বিপক্ষে চলমান টেস্টে মুমিনুলের কাছে আরো একটি সেঞ্চুরি প্রত্যাশা করতেই পারে টাইগার ভক্তরা। বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানও নিশ্চয় চাইবেন শতক হাঁকিয়ে তামিমের পাশে নাম লেখাতে।