| |

Ad

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের প্রতিশোধ নিতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা – শেখ হাসিনা

আপডেটঃ ৮:০৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৬, ২০১৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি যে বিজয় অর্জন করেছে তার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসররা ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। এর মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসানো এবং পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল।

শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এর আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

বক্তব্যের শুরুতে ১৫ আগস্টে নিহতদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যকাণ্ড ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা যে বিজয় অর্জন করেছি, সেই বিজয়ের প্রতিশোধ নেয়া এবং বিজয়কে ধূলিসাৎ করে স্বাধীনতাবিরোধীদের আবার ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করা, পাকিস্তানি ভাবধারা নিয়ে আসা। এ কারণে খুনিরা এই হত্যাকাণ্ডের পর পর প্রথম ঘোষণা দিয়েছিল- ইসলামী রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। সেটা পরবর্তীতে রাখতে সাহস পায়নি তারা।’

তিনি বলেন, ‘দিনভর যারা আমাদের বাড়িতে ঘোরাঘুরি করত তারাই খুনি রূপে আবির্ভূত হয়। জিয়াউর রহমান একটা মেজর ছিল। তাকে প্রমোশন দিয়ে দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছিল। বোধহয় মাসে একবার হলেও আমাদের বাড়িতে আসত। কখনো একা, কখনো খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে। কারণ, খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে আসলে মায়ের সঙ্গে দেখা করার উছিলায় ওপরে আসতে পারত। আর সে আমাদের লবিতে মোড়া পেতে বসত। ঘন ঘন তার যাতায়াত ছিল। ডালিম, ডালিমের শাশুড়ি, ডালিমের বউ দিনরাত আসত আমাদের বাসায়। মেজর নুর যুদ্ধের সময়ে কামালের সাথে থাকত। মোস্তাক তো মন্ত্রী ছিল। এরাই হত্যকাণ্ড চালালো। পরবর্তীতে যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছে, এখন অনেক বড় বড় কথা বক্তব্যে শোনায়, তারা কী ছিল? তারা কি এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল না? তারা ভেবেছিল, এভাবেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে। সেই ক্ষমতা টেকেনি।’

বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ডের নেপথ্যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মোস্তাক সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি  ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করল। জিয়াউর রহমান কীভাবে তার এত বিশ্বস্ত হলো যে, তাকে সেনাপ্রধান করল? পরবর্তীতে কর্নেল ফারুক, রশিদ বিবিসিতে যে ইন্টারভিউ দিয়েছিল, সেটা থেকেই জানতে পারেন এই বিষয়ে। তারা জিয়ার সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখেছে। জিয়া তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, এগুলো (বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ড) করলে তারা সমর্থন পাবে। তারা নিজেরাই বলে গেছে।’

১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের প্রতিবেদন ১৪ খণ্ডে প্রকাশ করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে দুই খণ্ড বেরিয়েছে। তৃতীয় খণ্ড খুব তাড়াতাড়ি বের হবে। ১৪ খণ্ডের এই রিপোর্ট, একটা নেতার বিরুদ্ধে, কত বড় রিপোর্ট চিন্তা করেন। অন্য নেতার বিরুদ্ধে যেসব ফাইল সেগুলো এক পাতা, দুই পাতার। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর জন্য ৪৮টা ফাইল। ৪০ হাজারের ওপর পাতা। শুধু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের সব অন্তর্জ্বালা ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত দশ বছরে যে কয়েকটা দেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। পাকিস্তান আজকে আমাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে সফল।’

মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর সফলতা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিছু নেই। সব ধ্বংসপ্রাপ্ত। এই অবস্থায় একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে করে গিয়েছিলেন। তখনো চক্রান্ত চলেছে। পাকিস্তানের দোসররা ছিল রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তখনকার অনেক রাজনৈতিক দলের নেতার মধ্যে এই ব্যাপারটি আসেনি। তাই এটা হলো না কেন, ওটা হলো না কেন- নানা প্রশ্ন, লেখালেখি, কথাবার্তা শুরু করেছিল। তখনকার ওই অবস্থার কথা যদি উপলব্ধি করত যে, একটি বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু একটা দেশ। সেই দেশকে গড়ে তোলা যে কত কঠিন কাজ, এই উপলব্ধিটা যদি সকলের মাঝে থাকত তাহলে হয়তো ১৫ আগস্টের মতো এতো বড় একটি আঘাত আসত না। এটা উপলব্ধি করতে অনেক সময় লেগেছিল।’

মা-বাবা-ভাই-আত্মীয়স্বজন হারানো শেখ হাসিনা বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশের মানুষ কখনো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারে, এ কথা বিশ্বাসই করতে পারেননি, জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব হারিয়ে দেশের মানুষের আর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন সেটিই তাকে শক্তি যোগায়, প্রেরণা দেয়।

তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস চিন্তায় সবসময় থাকে- আমার বাবা এ দেশকে স্বাধীন করেছেন। এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। মানুষকে উন্নত জীবন দিতে হবে। ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার আদর্শ আছে। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেব। সেই রক্তই তিনি দিয়ে গেছেন। আমাদের সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধুর স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মেরিনা জাহান। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।