| |

Ad

‘বিউটি উইদআউট ব্রেইন’- এ ব্যাপারটার অস্তিত্ব আমার কাছে নেই : জয়া আহসান

আপডেটঃ ৭:২৬ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৬, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ এপাড় আর ওপাড় বাংলার দর্শকদের মুগ্ধতার নাম জয়া আহসান। এ মাসের ১ তারিখ ছিল প্রিয় এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। ২০১১ সালে জয়া নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত ‘ গেরিলা’য় অভিনয়ের সুবাদে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এরপর রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’ ও অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রী’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য একই সম্মাননায় ভ‚ষিত হন। বর্তমানে ব্যস্ত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘অলাতচক্র’ এবং নতুন সিনেমা ‘বিনিসুতোয়’র শুটিং নিয়ে। শুধু সৌন্দর্য সৌকর্যেই নয় একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তার কাজ বলে মনে করেন জয়া।
১. কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ইভেন্টে আপনার উপস্থিতির জৌলুস নজর কেড়েছে সবার। আপনার লাইফস্টাইল, মেক-আপ, হেয়ারস্টাইলে মিলছে সাতন্ত্র্যতা। নিজেকে মানানসই রাখেন কিভাবে?
দেশ বা বিদেশের যে ইভেন্টস-এর কথাই বলেন, সেখানে আমি খুব সামান্য মেক-আপে বিশ্বাস করি। নিজের ভেতরের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য্য আমার কাছে খুব জরুরি। কিন্তু হ্যা, আমি মনে করি বাইরের সৌন্দর্য্যও একটা সম্পদের মত। ভালো ফ্ললেস স্কিন অথবা সুন্দর ঝরঝরে চুল একটা অর্নামেন্ট-এর চেয়ে কোনো অংশে কম না। যখন বিদেশি অনুষ্ঠানে যাই তখন আসলে আমাদের জন্য হেয়ার অ্যান্ড মেক-আপ সবকিছুর নিয়ম করাই থাকে। ভারতে আমার পারসোনাল হেয়ার স্টাইলিস্ট আছেন, উনার নাম হেমা মুনসি। উনি খুবই দক্ষ একজন হেয়ার স্টাইলিস্ট, বম্বের অনেক আর্টিস্টের কাজও উনি করে থাকেন।

২. আপনার সব চরিত্রেই তো দর্শক আপনাকে ভিন্নরূপে দেখেন। চরিত্রের প্রয়োজনেই কি নিজের বাহ্যিক লুক পরিবর্তন করেন?
বিশ্বাসযোগ্য একটা চরিত্রের জন্য লুক খুবই ইম্পর্ট্যান্ট। একটা চরিত্র আসলে প্রায় ৪০% লুক দিয়ে চলে, লুকটা যদি ঠিক হয় এমনকি কাস্টিংটা যদি সঠিক হয় তখন আসলে চরিত্রটা ৪০% এগিয়েই থাকে। বাকি ৬০% নিজের অভিনয়দক্ষতা এবং ভাগ্য।

৩. শারীরিক ফিটনেসের জন্য আপনি কি কি করেন?
আমার শারীরিক এক্টিভিটিজ বেশি করা হয়। যেমন স্পোর্টস আমার খুব পছন্দের। সুযোগ পেলেই ব্যাডমিন্টন খেলি বা বাইরে থেকে দৌড়ে আসি। এমনিতে জিমে যাওয়ার চেষ্টা করি, ওয়ার্কআউট করি, হালকা এরোবিকস করা হয়। কিন্তু সেটা খুব একটা নিয়ম করে করা হয় না। আমি এ ব্যাপারে খুবই ফ্লেক্সিবল।

৪. সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রিয় খাবারের তালিকা?
খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে বলতে গেলে আমি সালাদ খুব পছন্দ করি। মাছ আমার খুব পছন্দ, এমনকি রেড মিটও খাই। সকালবেলা উঠে একটা জিনিস আমি প্রতিদিন খাই। সেটা হল মধু দিয়ে হালকা গরম পানি সাথে লেবু। কাগজি লেবু হলে খুব ভালো, আর সেটা যদি হয় আমার বাসার বাগানের তাহলে আরও ভালো হয়। আমার বাড়িতে ছাদবাগান আছে, সেখান থেকে ফ্রেশ লেবু তুলে সেটা দিই। কখনো সুযোগ হলে গরম পানিতে মিন্ট পাতা বা তুলসি পাতা ফেলে সেটা খেয়ে নিই।

৫. আপনার কাছে সৌন্দর্য্য মানে কি?
আমার কাছে ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য্য অনেক বেশি জরুরি। আমার মনে হয় একটা মানুষ ভেতর থেকে আলোকিত হলে তার বাইরেও সেই বিষয়টা ধরা পড়ে। আমার কাছে ‘বিউটি উইদআউট ব্রেইন’- এই ব্যাপারটি অস্তিত্বহীন। অনেকে বলে ‘বিউটি উইদআউট ব্রেইন’ কিন্তু আমি বলি সেটা আবার হয় নাকি? ভেতর থেকে মানুষ সুন্দর হলে তার কথাবার্তা, চলাফেরা, হাসি, তাকানো সবকিছুতে সেই সৌন্দর্য্যের ছাপ পড়ে।

৬. আপনি নিজের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে সবচেয়ে প্রাধান্য দেন?
সত্যি বলতে, সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিই চুলকে। প্রকৃতি প্রদত্তভাবে আমার চুল ভালো। তবে, চুলের যতেœ প্রচুর তেল দিই চুলে। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি অনেকে চুলে তেল দিতে অস্বস্তিবোধ করেন কিন্তু আমি তেল দিয়ে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ থাকি। আমার মনে আছে ছোটবেলায় নানু আমার এ অভ্যাসটা করেছিলেন। আমার মাথায় অনেক চুল ছিল বলে ম্যানেজ করা যেত না। নানু নিজের বাড়িতে নারকেল তেল বানাতেন। নানুর বাড়িতে অনেক নারকেল গাছ ছিলো, সেখান থেকে নানু নিজে নারকেল জোগাড় করে সেগুলো দিয়ে তেল বানাতেন এবং সেই তেল আমাদের চুলে দেয়া হত। আমার নানুর ছোট্ট সুন্দর একটা স্টিলের তেল দেয়ার বাটি আছে, আমি এখনও সেটাতে করেই তেল দিই। এত বড় হয়ে গেছি, ওটা আমার জন্মেরও আগের। ওটাতে করে আমার নানু তেল দিতেন। আমি এখনও ওই বাটিটাতে করেই তেল দিই কারণ ওটা আমার ভীষণ প্রিয়। আমি অনেককিছু জমিয়ে রাখতে পছন্দ করি, আমার জমানো সবচেয়ে পছন্দের জিনিসটা হলো আমার নানুর মাথায় তেল দেয়ার বাটি। আমি হালকা গরম করে চুলে তেল দিই। হালকা তাপে চুলোর উপরে তেলের বাটিটা বসাই এবং চুলে দিই। আমি তেল দিয়ে এতোটাই স্বচ্ছন্দ যে শুটিংও চুলে তেল দিয়ে করে ফেলি, কেউ টেরও পায় না। আমাকে তেল দিলে অনেক পরিপাটি লাগে, সুন্দর লাগে। আমার মা এটা সবসময় বলেন যে চুলে তেল দিলে আমাকে বেশি ভালো লাগে দেখতে। আমার চুলের যতেœর প্রথম বিষয় হলো তেল দেয়া।
একদিন শ্যাম্পু করলাম অথবা শুটিং থেকে ফিরলাম, মাথাটা ভারি লাগছে, আমি তেল দিয়ে ফেলি। আসলে তেলের সাথে আমার মেন্টাল কোনো একটা কানেকশনও আছে, আমি চুলে তেল দিতে ভীষণ পছন্দ করি। নারকেল তেলের ঘ্রাণটা আমার ভালো লাগে। এমনকি আমি চুল না শুধু, স্কিন কেয়ারেও নারকেল তেল ব্যবহার করি। আমার পারসোনাল মেক-আপ করতেন ফারুক ভাই। খুব বড় মানের মেক-আপ আর্টিস্ট, মারা গেছেন। উনি আমাকে বলেছিলেন নারকেল তেল হালকা গরম করে ফেইসে লাগিয়ে ঘুমাতে। আমি তেলটা হালকা গরম করে মুখে লাগিয়ে ঘুমাই। এমনকি হাতে পায়ের জন্যও নারকেল তেল খুব ভালো।

৭. কোনো বিদেশী ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন কি?
বিদেশী কেন ব্যবহার করবো? বাংলাদেশী নারকেল তেল ব্যবহার করি। আর অবশ্যই জুঁই নারকেল তেল ব্যবহার করি।

৮. শ্যুটিং-এ লাইট, হেয়ার স্প্রে, হেভি হিট তো চুলে অনেক এফেক্ট ফেলে। শুধু তেল দিয়েই এই অত্যাচার সামলানো যায়?
আমাদের চুলের উপর আসলে একটু বেশি অত্যাচার হয়। এ কারণে সুযোগ পেলেই অয়েল মাসাজ নিই, বাড়িতে মা’কে বলি বা অন্য কেউ করে দেয়। শ্যাম্পু করার আগেও তেলটা অবশ্যই দিই, কখনো ভুলি না। আর সেটা অবশ্যই জুঁই দিয়ে করা হয়। এমনিতে স্পা কখনো কখনো করানো হয়।