| |

Ad

হাসপাতালে রাবেয়া – রোকেয়াকে দেখতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটঃ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১৪, ২০১৯

বিশেষ প্রতিবেদক: প্রায় ৩৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে আলাদা হওয়া শিশু রাবেয়া ও রোকেয়া এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রাবেয়া-রোকেয়াকে দেখতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) অপারেশন পরবর্তী সময়ে শিশু রাবেয়া ও রোকেয়াকে দেখতে সিএমএইচে আসেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

এর আগে রোববার চিকিৎসাধীন রাবেয়া-রোকেয়াকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় পাবনার চাটমোহরের রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ৩ বছর ১৫ দিন বয়সের এই দুই শিশু ২০১৭ সাল থেকেই সামগ্রিক সহায়তা পেয়ে আসছিল। হাঙ্গেরি সরকারের মাধ্যমে‘অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল’নামক সংগঠনও সক্রিয় সহায়তা করেছে। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন অস্ত্রোপচারে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।

গত ১ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় মাথা জোড়া লাগানো জমজ বাচ্চাদের পৃথক করার জটিল অপারেশন শুরু হয়।

এর আগে শিশু দুটির দুই স্তরে ‘এন্ডোভাস্কুলার সার্জারি’ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ৪৮টি ছোট-বড় অপারেশন হাঙ্গেরিতে সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে জটিল অংশ ‘জমজ মস্তিষ্ক’আলাদা করার কাজটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় সম্পন্ন হয়। এই অস্ত্রোপচারে হাঙ্গেরির বিশেষজ্ঞদের সাথে সিএমএইচের নিউরো অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে, নিউরো ও প্লাস্টিক সার্জনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের প্রায় শতাধিক সার্জন ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এই জটিল অপারেশনে অংশ নেন।

ঢাকা সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের অস্ত্রোপচার সারা বিশ্বেই বিরল। উপমহাদেশে এ রকম অস্ত্রোপচার এটিই প্রথম। এই অপারেশন বাংলাদেশে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেল।