| |

Ad

সকলের প্রাণ জুড়ানো কলম্বোর লাল মসজিদ

আপডেটঃ ৬:২২ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১০, ২০১৯

ডেস্ক নিউজঃ প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কা। এখানকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলিম। যা সংখ্যায় প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে কলম্বো শহরে মুসলিম সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি মসজিদ। এসব মসজিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে জামিউল       আল-ফার মসজিদ। এই মসজিদটি পর্যটকদের কাছে লাল মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কলম্বো শহরের প্রাণকেন্দ্র পেট্টা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি ১৯০৯ সালে স্থানীয়দের নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয় মজিদটি। ২য় ক্রস সড়কের লাল মসজিদের দৃষ্টিনন্দন কারুর্কাজ আকর্ষণ করে পর্যটকদের। দেয়ালের গায়ে লাল এবং সাদা রঙের কারুকাজ এবং মসজিদের সুউচ্চ মিনার এটির নান্দনিকতা আরো বহু গুনে বৃদ্ধি করেছে।  জামে-উল-আলফার মসজিদটি ১৯০৮ সালে শুরু হয় এবং ভবনটির নির্মান কাজ শেষ হয় ১৯০৯। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুম্মাহ্র নামাজ আদায়ের জন্য পেট্টায় অবস্থিত স্থানীয় ভারতীয় মুসলিম স¤প্রদায় এই মসজিদটি চালু করেছিল। মসজিদের ডিজাইনার এবং নির্মাতা ছিলেন হাবিবু ল্যাবে সাইবু ল্যাব। দক্ষিণ ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ইন্দো-সারেসনিক কাঠামোর ভিত্তিতে এটি তৈরি করেছিলেন। এটি আর্কিটেকচারের একটি হাইব্রিড স্টাইল। যা দেশীয় ইন্দো-ইসলামিক এবং ভারতীয় স্থাপত্যের উপাদানগুলি বহন করে। এটিকে গথিক পুনর্জাগরণ এবং নব্য-শাস্ত্রীয় শৈলীর সাথে সংযুক্ত করে। প্রথম দিকে এই মসজিদে ৫০০ থেকে এক হাজার মানুষ এক সাথে নামাজ আদায়ের জায়গা ছিল। এটি একটি স্বতন্ত্র লাল এবং সাদা ক্যান্ডি-স্ট্রিপযুক্ত দ্বিতল ভবন। এখানকার গম্বুজগুলোর একটিতে  ঘড়ির যুক্ত টাওয়ার রয়েছে। অনেকেই মনে করেন এই মসজিদটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের জামেক মসজিদের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের আগে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে জামে উল-আলফার মসজিদটি বন্দরের নিকটে নাবিকরা কলম্বোর ল্যান্ডমার্ক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। ১৯৭৫ সালে হাজী ওমর ট্রাস্টের সহায়তায় মসজিদ সংলগ্ন কয়েকটি সম্পত্তি ক্রয় করে এক সাথে ১০ হাজার মানুষের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা তৈরি করা হয়। মসজিদের খাদেম জামাল বলেন, শুধু কলম্বো থেকেই নয় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিম স¤প্রদায়ের মানুষেরা এখানে আসলে নামাজ আদায় করেন। আর পর্যটকদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। নামাজ আদায়ের পর পর্যটকদের এই মসজিদের বিভিন্ন স্থান দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। আর কেউ এর ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে তাকে ইংরেজিতে গাইড দেয়া হয়। মসজিদটি ঘুড়ে দেখা গেছে, ৬ তলা বিশিষ্ট চতুর্ভূজ আর্কৃতির। এর উপরে রয়েছে ছোট বড় বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ। পূর্ব দিকের একটি ভবনে রয়েছে খাদেম এবং অন্যদের থাকার ব্যবস্থা। নিচতলায় রয়েছে ওজু করার নির্ধারিত স্থান। মসজিদের প্রতিটি দেয়ালেই রয়েছে রুচিশীল স্থাপত্যের ছোঁয়া।