| |

Ad

গরুর দাম পাঁচ বছরে বেড়েছে কয়েকগুণ

আপডেটঃ ৬:২৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১০, ২০১৯

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : গত পাঁচ বছরে গরুর দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। গো-খাদ্যের উচ্চমূল্য, ওষুধসহ আনুষাঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধিতে দামের উপর এমন প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। এছাড়াও ঢাকার বাহির থেকে গরু আনা-নেয়াতে পরিবহন ব্যয়সহ আরো কিছু কারণ উল্লেখ করেন তারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গাবতলী গরু হাটে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিক্রেতারা বলেন, গবাদী পশু পালনের ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। ফলে দামও বাড়ছে প্রতিনিয়তই। বিশেষ করে গরুর খাবার ভুষি এবং প্যাকেটজাত খাবারসহ অন্যান্য উপাদানগুলোর দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে সামগ্রীক দারের উপর। বগুড়ার কাহালু উপজেলা থেকে আসা গরু বিক্রেতা নজরুল বলেন, পাঁচ বছর আগের দাম আর বর্তমান দামের মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে। ৫ বছর আগে মাঝারি সাইজের গরুর দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিংবা খুব বেশি হলে ৪০ হাজার। কিন্তু এখন মাঝারি সাইজের গরুর দাম শুরু ৬০ হাজার টাকা থেকে। এর পরও পছন্দ মতো গরু পাওয়া যায় না।  ওই বাজারে আসা অপর বিক্রেতা জামিল বলেন, এখন সব কিছুই দাম বাড়তি। সুতরাং বিক্রি দামও বাড়তি। গ্রামে আর আগের মতো গরুর খাবার পাওয়া যায় না। এখন খাবার কিনে খাওয়াতে হয়। একটি গরুর প্রতি দিনের খাবার চাহিদা মেটাতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত লাগে। ঠিক মতো যতœ নেয়ার জন্য আলাদা লোক রাখতে হয়। তাদেরও দিতে হয় মোটা অঙ্কের বেতন। ফলে গরুর পেছনে সারা বছরই খরচ লেগে থাকে। আর এখন কম টাকায় গ্রামেও লোক পাওয়া যায় না। সব খানেই টাকা লাগছে। সব কছিু হিসাব করেই গরুর দাম আমরা মুনাফাসহ নির্ধারণ করি। এক প্রশ্নের জবাবে এই খামারি বলেন, গরু মোটাতাজা করতে যারা ওষুধ কিংবা অন্যান্য পন্থা অবলম্বন করে তারা মানুষের মধ্যেই পরে না। কোরবানির পশু বিক্রি করে আমরা মুনাফা করবো ঠিকই সেটা যেন সঠিকভাবে এবং হালাল ভাবে হয় এদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। তাছাড়া গরু মোটাতাজা করে রাতারাতি কিছু মানুষ বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু যারা এই মাংস খাচ্ছে তাদের কি পরিণতি হচ্ছে সেটাও দেখার এবং ভাববার বিষয়। সুতরাং নূন্যতম মনুষত্ব থাকলে কেউ এমনটা করার কথা নয়। ধর্মপ্রাণ মানুষেরা ত্যাগের মহিমায় পশু করবানি করেন, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য। সেখানে লোভ না করাটাই ভালো। বাজারে আসা ক্রেতা সজীব বলেন, গত ৫ বছর আগে গরুর দাম আর এখনকার দামে অনেক তফাত। পাঁচ বছরে অনেক দাম বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের সাধ্যের সাথে দাম মেলাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এমন কি ভাগের টাকাও অনেক বেশি পড়ছে। ৫ থেকে ৭ বছর আগে এমনটা ছিল না। বাজারে গেলে নাগালের মধ্যে মাঝারি সাইজের গরু পাওয়া যেত। আর এখন এটা আশাও করা যায় না।ওই বাজারে আসা বিক্রেতা খলিল বলেন, গরু লালন-পালন থেকে শুরু করে ঢাকায় নিয়ে আসা পর্যন্ত সবখানেই খরচ রয়েছে। ঢাকায় আনা নেয়া করতেও অনেক টাকা ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে হাটে গরু উঠানোর পর আবারো নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করে আমরা দাম নির্ধারণ করি। যেন আমাদেরও লোকসান না হয়, ক্রেতারাও ভালো দামে কিনতে পারেন।