| |

Ad

পর্যটকরা মুগ্ধ কলম্বো মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য্যে!

আপডেটঃ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৮, ২০১৯

ডেস্ক নিউজ: সমুদ্র সৈকতের শহর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো। এখানে পর্যটন কেন্দ্রের অভাব নেই। শহরের স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরা সব থেকে বেশি পছন্দ করেন সমুদ্রের তীরে বসে সময় কাটাতে। তাই কলম্বো এক কিংবা কলম্বো ৬ সব খানেই দেখা যায় মানুষের আনাগোনা। আর এই সব স্থানগুলোর মধ্যে শহরের মেরিন ড্রাইভ আকর্ষণ করে সবাইকে। 
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, কলম্বো মেরিন ড্রাইভ প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মেরিন ড্রাইভের সাথে এখানকার রয়েছে বিস্তর তফাৎ। এখানে সড়কের পশ্চিম তীর ঘেষে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে রেল লাইন। কলম্বো থেকে গলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রেন চলাচল করে এই রেল পথ ধরেই। আর রেল লাইনের পাশেই বিশাল নীল পানির ভারত মহাসাগর। সমুদ্রের বিশাল ঢেউ তীরে আছড়ে পড়লে পানির ঝাঁপটা এসে লাগে ট্রেনের বগিতে।
মেরিন ড্রাইভের পূর্ব দিকে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। এখানে একেবারেই সস্তায় এপার্টমেন্ট, হোটেল এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। আর এ কারণেই এখানে অন্যান্য স্থানের তুলনায় বিদেশি পর্যটকদের সমাগম অনেক বেশি হয়। সেখানেই কথা হয় জার্মান নাগরিক সাইমনের সাথে। তিনি বলেন, কলম্বো শহরের সব থেকে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এটি পুরো প্রাকৃতিক। সমুদ্রের নির্মল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে। শুধু তাই নয়, এখান থেকে খাবার হোটেলগুলোও অনেক কাছে। ফলে এখানে বসে সূর্যাস্ত দেখা এবং অবসর সময় কাটাতে অনেক ভালো লাগে। 
ওই শহরের স্থানীয় বাসিন্দা য্যোথি বলেন, এখানে সব সময়ই লোক সমাগম হয়। ভোর থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত। এর কারণ রাস্তার ওপারেই হোটেল। এখানে রয়েছে বাজেট এপার্টমেন্ট। ভারতীয়, পাকিস্তানীসহ বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেন্ট। শুধু তাই নয়, এর পাশের সড়কটিতে রয়েছে শপিং সেন্টার। সুতরাং যারা কলম্বোতে আসে কম দুরুত্বে সব ধরনের সুবিধা পেতে এই এলাকাটিই পছন্দ করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকাটি সব থেকে বেশি জাঁকজমক থাকে রোববার এবং সোমবারে। শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা এখানে সকাল থেকেই বর্শি দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে। চলতে থাকে মধ্য রাত পর্যন্ত। ছুটির দিনের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে এসে অবসর সময় কাটান অনেকেই। সপ্তাহের ওই দু’দিন শহরের আকাশে উড়ে লাল, নীল, সবুজ এবং হলুদ রঙের শত শত ঘুড়ি। বাহারি রকমের ফ্রেশ জুস এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্যাপক আয়োজনও থাকে ছুটির দিনে। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও এখানকার জনপ্রিয় বাতাবি লেবু, কমলা, কদবেল এবং মালটা জুসের স্বাদ গ্রহণ করেন। 
এই সড়কটি সব সময়ই দ্বিমুখী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। শহরের সব এলাকা থেকেই এখানকার সংযোগ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সহজ। মেরিন ড্রাইভের দুই দিকে রিয়েছে দুটি ট্রেন স্টেশন।  সড়কে পারাপারের জন্য রয়েছে ওয়াকিং সিগন্যাল লাইট এবং ওভার ব্রিজ।